TahMiD's Blog! Tech, Science Writer & Blogger

তুমি এসে কবে পছন্দ করবে, তার অপেক্ষায় আমি ক্লান্ত!

অন্য কারো হয়ে লিখছি;

মানুষ এটার নাম দিয়েছে উন্মাদনা, আপনি একই কাজ বারবার করতে থাকেন আলাদা আলাদা রেজাল্টের আশায়। হ্যাঁ, পেছনের এক বছর এভাবেই কাটছে আমার!

আমরা একসাথে ছিলাম, আর এখন আমরা একসাথে থেকেও একসাথে নেই — হলফ করে বলছি, এই দুই লাইন লিখতে যে কয়েক সেকেন্ড সময় লেগেছে, এটা ঘটেছেও তেমন কয়েক সেকেন্ডে। আমি এই সম্পর্কের সর্বদায় কেয়ার করেছি, একটা বেটার নাম দেওয়ার জন্য। এই সম্পর্কে তোমার অবস্থান কোথায় সেটা বহু আগে ঘোষণা করে দিয়েছি। আর তুমি? কখনো কেয়ার করো এমনটা বুঝাও, আবার এক অচেনার মতো আচরণ করো।

তুমি কি ভেবেছিলে, এগুলো আমার জন্য সহজ ছিলো? প্রথমবারের মতো আমি আবার আমার হৃদয় খুলেছিলাম কারো জন্য। ভেবেছিলাম দুই দুনিয়াকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখবো, বন্ধু আর বয়ফ্রেন্ড এই দুইটা জিনিস একাকার করবো না। কিন্তু কিভাবে তোমার বন্ধু হয়ে থাকতাম বলো, এটা তো অন্যায় হতো, তোমার পাশে অন্য কাউকে কল্পনা করতে পারতাম না। আর এটা নিশ্চয় বেস্ট ফ্রেন্ডের চিন্তা ভাবনা হওয়া উচিত না, রাইট?

তুমিও কেয়ার করেছো, কিন্তু এক আলাদা লেভেল থেকে। এটা এমন যে, একই গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েও আমরা আলাদা দুই রাস্তা বেছে নিয়েছি। আমার রাস্তা ভালোবাসায় পরিপূর্ণ, এটা সরাসরি গন্তব্যে গিয়ে পৌছায়। আর তোমার রাস্তায় প্রত্যেক দুই ধাপ পরপর স্টপ সাইন। কখনো আমার এই দোষের সাইন, কখনো আমি কতো মিথ্যা ব্যক্তি তার সাইন, কখনো এটা করা যাবে না সেটা করা যাবে না তার সাইন, কখনো হয়তো আমাকে অপশনাল বানানোর সাইন, তো কখনো জাস্ট ফ্রেন্ড বানানোর সাইন।

আমি শুনেছি, এমনটা নাকি হয়, দুই জন মানুষের মধ্যে চেনা জানা হয়, ভাব বাড়তে থাকে, একজন একভাবে ভাবতে শুরু করে আর আরেকজন সেটা পরিপূর্ণ করতে পারে না আর এটা এক বিরাট ভোগান্তি। হ্যা, It Sucks, কিন্তু এমনটায় হচ্ছে।

ভেবেছিলাম, একদিন হয়তো আমরা একই সাথে এক করে ভাববো সবকিছু। একসাথে কোন সিনেমার গল্প করতে করতে অকারণে হাসবো। কিন্তু তুমি সেই সুযোগই আমাকে দিলে না কখনো, সবসময় এক আলাদা নজরে দেখলে আমাকে। মাসের পর মাস গুনছি তোমার প্রতীক্ষায়, আর এখন মনে হচ্ছে তোমার গাড়ির চাকা সামনে না গিয়ে উল্টো পথে এগোচ্ছে। প্রথমে তো অনুভব করতাম, আমি তোমাকে একটু হলেও চিনি। এখন ধীরেধীরে তুমি এক অজানা ক্যারেক্টারে পরিণত হচ্ছো।

আমি এখানে তোমার ভালোবাসার ইশারা পাবার অপেক্ষা করছি, তুমি টাইম নিয়েছো আর আমি টাইম গুনছি। কিন্তু এই টাইম আরো বেশি বেশি মেমোরি সংগ্রহ করছে, রাতে আমার অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা যেটুকু সময় একসাথে ছিলাম, একসাথে কোথাও বসেছি, বাইকে করে ঘুরেছি, একসাথে হেসেছি.. আমি ভাবি, কেন আমরা এখন একসাথে নেই, কেন আমরা এক হতে পারি না?

আমি জানি আমি পারফেক্ট নই, তুমি আমার থেকে সব অংশে হয়তো বেটার। কিন্তু এটা তো ঠিক না যে তুমি সর্বদায় আমাদের এমন এক অবস্থায় ফেলে দেবে যেখানে আমি একা যুদ্ধ লড়ছি কিন্তু তুমি মোটেও সেই যুদ্ধের কোন অংশ নও। আমি কখনোই তোমার আসল বন্ধু হতে পারবো না যদি তোমাকে অন্যের সাথে দেখে খুশি অনুভব না করতে পারি। অন্তরের গভীরে আমি তোমার জাস্ট ফ্রেন্ড ছিলামই না হয়তো, আমি বেশি কিছু চেয়েছি অজান্তেই।

এখন এক লম্বা সময়ের পরে তুমি আমাকে জাস্ট ফ্রেন্ড আর বেস্ট ফ্রেন্ড বানাতে চাও, যেখানে আমি আমার অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার করে দিয়েছি। তুমিই বলো, কিভাবে তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে থাকবো, যেখানে আমার বেস্ট ফ্রেন্ডই আমার ভালোবাসা? কিভাবে আমার ভাঙ্গা হৃদয় তোমার সাথে থেকে জোড়া লাগাবো? যেখানে আমার ভাঙ্গা হৃদয়ের তুমিই কারণ।


দিনের পর দিন আমি এখানে বসে তোমার অপেক্ষা করছি, তুমি দেখা দেবে, তুমি ক্ষমা চাইবে তোমার দেরির জন্য, তুমি কোন এক ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়েছিলে হয়তো। কিন্তু সময় ফুরিয়ে আসছে, রেস্টুরেন্ট দ্রুতই বন্ধ হয়ে যাবে, আর আমার মনেও হয়না তুমি সময়ে পৌঁছাতেও পারবে।

আমি জানি না, কেন আমি এখন এই মুহুর্তেই তোমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমি নিজেকে কোন অপশন বা চয়েজ ভাবতে সবচাইতে বেশি গৃণা করি। আর আমি সর্বদায় তোমার কাছে কোন এক চয়েজ। আমি বসে অপেক্ষা করছি, তুমি আমায় কবে চয়েজ করবে। কখনো জানতে চেয়েছ আমি কি চাই? কখনো বুঝছো আমায়?

হ্যাঁ, আমাকে চয়েজ বানাতে পারো, কিন্তু তোমার প্রথম চয়েজ। আর যেটাকে অগ্রাধিকার বলা হয়। আমি তোমাকে ভালোবাসি, আর আমি চাই এটা পারস্পারিক কোন সম্পর্ক হোক, যদি সময় নিয়ে তুমি আমার পথেই না আসো, তাহলে এর তো কোন পয়েন্ট থাকলো না তাই না? আর এই জন্যই,

তোমাকে আমায় প্রত্যেকদিন চুজ করতে হবে, হ্যাঁ, প্রত্যেকটা দিন!

আমি তোমার স্বপ্নের রাজপুত্র হতে পারবো, সব দিক থেকে পারফেক্ট কেউ হবো, আমি নিজেকে ফ্যানসি কোন পারসনে পরিবর্তন করবো এমন কোন নিশ্চয়তা আমি দিতে পারবো না। তবে তোমায় সেই ভালোবাসার স্থান দেবো, সেই রিয়াল লাভ, যেটার মূল্য রাখে। ঝড় হোক বা বৃষ্টি, রাস্তা যতোই কাটা আর পাথর বিছানো হোক না কেন, তোমার হাত ছাড়বো না কখনো।

কিন্তু তুমি আজো প্রস্তুত হতেই পারলে না, আমাকে চুজ করতেই পারলে না, আমাকে ভালোবাসতেই পারলে না। আর আমি জানি না তুমি হাজার বছরেও আর পেরে উঠবে কিনা।

লেখকের সম্পর্কে

Tahmid Borhan

ইন্টারনেটে অধিকাংশ রিডার আমাকে প্রযুক্তি ব্লগার এবং একজন টেকগীক হিসেবেই চেনেন। এছাড়াও আমি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে থাকি, নতুন নতুন জিনিষ শিখতে এবং এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসি, প্রচণ্ড মুভি দেখি ও গান শুনি, বিজ্ঞান চর্চা করতে ভালোবাসি।

ঠিক যখনই আমি জীবনের অর্থ খুঁজে পেলাম, সে তা বদলে দিল!

Add comment

TahMiD's Blog! Tech, Science Writer & Blogger

Tahmid Borhan

ইন্টারনেটে অধিকাংশ রিডার আমাকে প্রযুক্তি ব্লগার এবং একজন টেকগীক হিসেবেই চেনেন। এছাড়াও আমি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে থাকি, নতুন নতুন জিনিষ শিখতে এবং এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসি, প্রচণ্ড মুভি দেখি ও গান শুনি, বিজ্ঞান চর্চা করতে ভালোবাসি।

ঠিক যখনই আমি জীবনের অর্থ খুঁজে পেলাম, সে তা বদলে দিল!