TahMiD's Blog! Tech, Science Writer & Blogger

কখনো ভালোবাসা ভিক্ষা চেয়ো না!

কখনো ভালোবাসা ভিক্ষা চাইবে না। কক্ষনো না…। কখনো কাউকে তোমার সাথে থাকতে বা তোমাকে ভালোবাসতে বা আপন করার জন্য ভিক্ষা চাইবে না। কখনো তাদের কাছে তাদের সময়ের বা স্নেহের ভিক্ষা চাইবে না। কখনো তাদের কাছে তাদের এটেনশান বা তাদের কমিটমেন্ট পাওয়ার ভিক্ষা চাইবে না। তোমার জীবনে কখনোই কারো কাছে ভালোবাসার ভিক্ষা বা তোমার সাথে থাকার জন্য ভিক্ষা চাওয়া উচিত নয়।

যে তোমাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসবে তার পেছনে তোমাকে দৌড়ে বেড়াতে হবে না, বরং সে নিজেই তোমার থেকে কখনো দৌড়ে পালাবে না। যে তোমাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসবে, এক্কেবারে সত্যিকারে ভালোবাসবে। সে কখনোই তোমাকে ভালোবাসা ভিক্ষা চাইতে দেবে না, তার কাছে তার ফ্রি সময় জন্য তোমাকে লুটিয়ে পড়তে হবে না। যে তোমাকে ভালোবাসবে তার ভালোবাসার প্রতি কখনোই তোমার প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন পড়বে না। তোমার মনের মধ্যে সত্যি উত্তরটা আগে থেকেই মজুদ থাকবে।

হেই, তুমি কি কোন পালিত কুত্তা? যে তোমাকে দেখি কোন হাড্ডি ছুড়ে মারা হলো আর তুমি সেটা মুখে করে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসবে? তাহলে তুমি কেন কারো কাছে ভালোবাসা ভিক্ষা চাইবে? তুমি যদি কাউকে যথেষ্ট পরিমাণে ভালোবাসো, তুমি যদি তার কেয়ার করো, তো তুমি ভালোবাসা ডিজার্ভ করো! তুমি কেন ভিক্ষা চাইবে? তোমাকে কুত্তা হওয়ার দরকার নেই, যে তুমি মনিবের সামনে এক হাত জিব্বা বের করে লালা ঝরাতে ঝরাতে তার কাছে ভালবাসার আকুতি জানাবে।

কারো কাছে ভালবাসা ভিক্ষা চাওয়া মানে নিজেকে অসম্মান করা, নিজের ভালোবাসাকে অসম্মান করা, আর এটা মোটেও মানবের জন্য প্রযোজ্য নয়। তো নিজেকে আর নিজের ভালোবাসাকে এ ভাবে অসম্মানিত হতে দিও না। ভিক্ষা মানে অসম্মানিত হওয়া।

আচ্ছা চলো এবার তোমার সাথে ফেস টু ফেস কথা বলা যাক… তুমি কেন তার কাছে ভালোবাসা ভিক্ষা চাও? কারণ তুমি তাকে ছাড়া থাকতে পারবে না? তুমি বাঁচতে পারবে না? আর এটা তোমার জীবনের সবচাইতে বড় মিথ্যা! তুমি তাকে ছাড়াও এর আগে বেঁচে থেকেছ আর তার পরেও বেঁচে থাকতে পারবে। এটা এক মিথ্যা যেটা তুমি নিজেকে কঠোরভাবে বিশ্বাস করাতে চাও, আর এর জন্য নিজের আত্মসম্মান বোধ টুকুও ডোবায় ফেলে দিচ্ছ তুমি।

আচ্ছা, তুমি যে তাকে এতো অ্যাটেনশন দাও কিংবা তার টেনশন পাওয়ার জন্য তিল তিল করে নিজেকে মেরে ফেলছো, ভিক্ষা চাইতে চাইতে নিজের মাথা মাটিতে ঠেকে ফেলছো, সত্যি করে বলতো সে কি তোমাকে কখনো স্পেশাল ফিল করিয়েছে? তার সাথে থেকে তোমার কি কখনো মনে হয়েছে যে, সে তোমাকে বাকিদের থেকে আলাদা নজরে দেখে? তুমি তার কাছে অনেক বেশি স্পেশাল? আমার মনে হয়না তুমি কখনো এমনটা অনুভব করেছো, যদি এরকম টায় হত তবে তোমাকে ভিক্ষার জন্য এতটা নিচে নামতে হতো না।

তুমি কি এতটাই অন্ধ হয়ে গেছো, নাকি তোমার বিশেষ রোগ রয়েছে? তুমি কি জানো যে কারো কাছে ভালোবাসা ভিক্ষা চাওয়া মানে আসলে তার কাছে কোন জিনিসের পারমিশন চাওয়া? কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তুমি কিসের জন্য পারমিশন চাচ্ছো? যদি তোমার অনুমতি ই দরকার পড়ে তো আমার সাথে জোরে বলো,

তুমি আমার সাথে থাকো আমি তার অনুমতি চাই, আমি সত্যিই চাই তুমি আমার সাথে থাকো কারণ আমি একজন ভিক্ষুক”

দেখো ভিক্ষুককে সবাই সব সময় ভিক্ষা দেয়না, রাস্তায় তো তুমিও প্রত্যেকদিন অনেক ভিক্ষুককে দেখতে পাও কিন্তু কয়জনকে তুমি ভিক্ষা দাও? আর ভিক্ষুক কে যেটা ভিক্ষা দেওয়া হয় সেটা ভালোবাসা নয় বরং সহানুভূতি। তো তুমি বলো, ভালোবাসা ভিক্ষা চেয়েও কি তুমি কারো সহানুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাও? তুমি কি নিজের অস্তিত্বটাকে এভাবেই পরিনাম দিতে চাও?

হেই, আমি তোমার ভালবাসাকে বা তোমার আবেগ কে ছোট করার জন্য প্রবন্ধ লিখছি না। আমি জানি তুমি কেমন ফিল করো। তোমার জায়গাতে আমি নিজেও কখনও না কখনও ছিলাম। কাউকে কখনো প্রচন্ড বেশি ভালোবেসেছি, হয়তো এখনো বাসি। তার জন্য সবকিছু করেছি, সব কিছু করতে রাজি ছিলাম, তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি তাকে কতটা ভালোবাসি। তার হয়ে সব কিছু করেছি, কিন্তু ভালোবাসা ভিক্ষা চাইনি। ভালোবাসা অনেক বড় জিনিস, ভালোবাসার অসম্মান হতে দেওয়া উচিত নয়, এমনকি নিজের ভালোবাসা অসম্মান করা তোমার নিজেরই কোন অধিকার নেই। যতক্ষণ তুমি নিজেই নিজের ভালোবাসার শ্রদ্ধা করবে না, অন্যরা কি তাহলে ঘণ্টা টাইম দেবে?

আমি জানি তুমি একা থাকতে ভয় পাও, হয়তো তোমাকে ছেড়ে সবাই চলে যায় আর এমন অবস্থা থেকেই তোমার এই বিশেষ ভয়ের তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাই বলে কি তুমি এভাবে নিজের হিটু মাটিতে নামিয়ে দিয়ে হাত জোর করে কারো কাছে ভালোবাসার ভিক্ষা চাইবে? নিজেকে এতটা নিচে নামিয়ে নিজের অসম্মান করবে? তুমি এমন এক ভয়ানক রেলেশনশিপ কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছো, যেটা তোমাকে অসম্মান ছাড়া আর কিছুই দেয় না। তোমার কি মনে হয়? একা থাকার চাইতে ভালোবাসার আর স্নেহের ভিক্ষা চাওয়া অনেক বেটার কিছু?

একবার ভেবে দেখো, তোমাকে সে ভালোই বাসে না, তোমার সাথে থাকতেও চায় না, কিন্তু তুমি তার কাছেই ভালোবাসা ভিক্ষা চাও শুধু এই জন্য যে তুমি একা থাকতে ভয় পাও? হ্যা, ভেবে দেখো…

শোনো, তুমি তার ভালোবাসা ভিক্ষার চেয়ে অনেক বেশি কিছুর মূল্য রাখো। এক্ষুনি তোমার মাটিতে বসিয়ে রাখা হাটু দুটো তুলে ফেল, দুটো পা ব্যাবহার করে সোজা হয়ে দাড়াও। তোমার কণ্ঠকে ভিক্ষার জন্য আর ব্যাবহার না করে চিৎকার করে আওয়াজ করো। প্রয়োজনে তুমিই আগে হেঁটে চলে যাও তার থেকে। দেখিয়ে দাও, তোমার পা গুলো হীটু গেড়ে বসে থাকার জন্য নয়, বরং হেঁটে সামনে এগোনোর জন্য! তোমার হাত দুটো অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাওকে ধরে রাখার জন্য নয় বরং অসাধারণ কিছু ধারণ করার জন্যে। তোমার ভালোবাসা আর আত্মসম্মানের মর্যাদা পাওয়ার অধিকার কেবল তোমারই, আর কারো নয়।


তোমার যদি ভিক্ষা অভ্যাসে পরিণত হয়ে থাকে, ভিক্ষা ছাড়া যদি আর থাকতেই না পারো, তো আমার শেখানো শব্দ ব্যবহার করে ভিক্ষা চাও,

আমি তোমার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাচ্ছি, তোমার কাছে এতোদিন ভালোবাসা ভিক্ষা চেয়েছি তার জন্য। কিন্তু বিনিময়ে তুমি যে আমাকে বারবার ছোট অনুভূত করাও, এটার কোন অধিকার তোমার নেই!

তো যদি তোমার ভিক্ষা চাইতেই হয় তো এভাবে বলো, তাকে কাছে রাখার ভিক্ষা চেয় না বরং তাকে বুঝিয়ে দাও, তুমি কোনভাবেই তোমার ভালোবাসাকে অসম্মান করতে দেবে না। কাউকে তুমি নিজে থেকেই যদি চলে যেতে দাও, এর মানে এই নয় যে তুমি তাকে ভালোবাসতে না বা ঘৃণা করতে। এর মানে এটাও নয় যে, তুমি তার সম্মান করতে না। এর মানে হচ্ছে এটা যে তুমি নিজেকে বেশি সম্মান করো, আর এটা কখনোই কোনো খারাপ জিনিস নয়।

মনে রাখবে, তুমি সুন্দর, তোমার মন সুন্দর, তোমার ভালোবাসা সুন্দর, আর তোমার ভালোবাসা ভিক্ষার প্রয়োজন নেই, তুমি ভালোবাসা ডিজার্ভ করো।

লেখকের সম্পর্কে

Tahmid Borhan

ইন্টারনেটে অধিকাংশ রিডার আমাকে প্রযুক্তি ব্লগার এবং একজন টেকগীক হিসেবেই চেনেন। এছাড়াও আমি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে থাকি, নতুন নতুন জিনিষ শিখতে এবং এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসি, প্রচণ্ড মুভি দেখি ও গান শুনি, বিজ্ঞান চর্চা করতে ভালোবাসি।

ঠিক যখনই আমি জীবনের অর্থ খুঁজে পেলাম, সে তা বদলে দিল!

1 comment

TahMiD's Blog! Tech, Science Writer & Blogger

Tahmid Borhan

ইন্টারনেটে অধিকাংশ রিডার আমাকে প্রযুক্তি ব্লগার এবং একজন টেকগীক হিসেবেই চেনেন। এছাড়াও আমি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে থাকি, নতুন নতুন জিনিষ শিখতে এবং এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসি, প্রচণ্ড মুভি দেখি ও গান শুনি, বিজ্ঞান চর্চা করতে ভালোবাসি।

ঠিক যখনই আমি জীবনের অর্থ খুঁজে পেলাম, সে তা বদলে দিল!