TahMiD's Blog! Tech, Science Writer & Blogger

আজকে আমার জন্মদিন, আর এতে কোনোই বিশেষত্ব নেই!

জন্মদিন সবার জন্য খুশির দিন, রাইট? ওয়েল, নট ফর সবার জন্য একচুয়ালি! “জন্মদিন” এমন এক শব্দ যেটা ছোট বেলায় টিভিতেই দেখেছি শুধু পালন করতে, তাও না বুঝে, আসলে হচ্ছে টা কি। জ্ঞান বুদ্ধি হবার অনেক পরে জেনেছি বার্থডে বলে কোন একটা দিন আসে যেদিন মানুষ নিজের জন্মদিনকে উৎযাপন করে। মোমবাতি জ্বেলে, কেকের উপরে রাখে তারপরে মোমবাতি ফু মেরে নিভিয়ে সবাই এক বিশেষ গান গাইতে শুরু করে, Happy Birthday To You, Happy Birthday To You Dear অমুক, Happy Birthday To You!

জন্মদিন পালন ব্যাপারটা এখন অনেক কমন জিনিস হলেও আমার সময়ে মানে আমি যখন ছোট ছিলাম তখন এটা তেমন কমন ব্যাপার ছিলনা। তাছাড়া গ্রামে বড় হয়েছি, আর ১৯শ সালে গ্রামে কে এগুলা পালন করতো? আমার মা নিজেই ভুলে যেতেন আমার বার্থডে কত তারিখে। সবসময় জন্মদিন পার হওয়ার ৬-৭ দিনের মাথার তার মনে পরতেন!

আমি ২০১০ সালের দিকে প্রথম ব্যাংক একাউন্ট খুলেছিলাম, তারপরে ডেবিট কার্ড এক্টিভ করতে ব্যাংক এ ফোন করলাম আর তারা আমার জন্ম তারিখ জানতে চাইলো ভেরিফিকেশন পারপাসে। সঠিক ডেট খুঁজে পেতে প্রায় ৩০ মিনিটের অধিক সময় লেগেছিল আর ১০ মিনিট পরে ব্যাংক এজেন্ট ফোন কেটে দেয় বিরক্ত হয়ে, বলে, “খুঁজে পেলে আবার ফোন করবেন”। তো এই হচ্ছে আমার নিজের জন্ম তারিখ মনে রাখার নিজেরই অবস্থা!

ছোট বেলা থেকেই আমি জগাখিচুড়ী টাইপের ছিলাম। নিজেকে কখনোই স্পেশাল কেউ মনে করিনি, কেউ আমাকে কখনো স্পেশাল ফিল করাবে বলেও আকাঙ্খা করি নি। আর আমি জীবনে কখনো তেমন বিশেষত্ব অর্জনই করিনি যেটার উৎযাপন করতাম। অ্যাটেনশন খুব একটা পছন্দ করি না, আমি মনেই করতাম না আমি কিছু ডিজার্ভও করি।

আমি বেশিরভাগ সময়ই ডিপ্রেসড থাকি। এখন অনুভব করতে পারি আসলে অনেক আগে থেকেই ডিপ্রেসড ছিলাম। শুধু সময়ের সাথে কারণ গুলো পরিবর্তিত হয়েছে। জীবনের সাথে লড়াই করতে করতে এখন এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি, ভুলেই গেছি কার সাথে লড়ছি আর কেনোই বা লড়ছি?

ফিরে আসি আমার বার্থডে নিয়ে, এই জিনিসটা কোন কালেই স্পেশাল কোন মুহূর্ত ছিলনা আমার জন্য। কেউ একজন স্পেশাল ফিল করিয়েছিল মুহূর্তের জন্য, তারপরে নিচু দেখাতেও একটু পিছ পা হয়নি, কুত্তার চেয়েও খারাপ ট্রিট করা হয়েছে। আমি আজ জাস্ট নোকিয়া!

তো আমার কাছে আর চার পাঁচটা দিনের মতোই বার্থডে হচ্ছে এক সাধারণ দিন। দেয়ার ইজ নাথিং স্পেশাল। আজকেও ঘুম থেকে উঠবো, একইভাবে কাজ করবো, সাধারণ খাবার খাবো, ৯০% সময় নিজের মাথায় ঢুকে থাকবো, ব্যাস এটুকুই। মানুষ মনে করে তারা প্রত্যেক বছর ১ বছর করে বেশি বয়স্ক হয় তাই এটা উজ্জাপন করার দিন, কিন্তু আমরা প্রত্যেক ন্যানো সেকেন্ডেই বয়স্ক হচ্ছি, কই সেটা তো সেলিব্রেট করি না!

বার্থডে কেক? ওয়েল, আমার কাছে এটা অভার রেটেড ব্যাপার! আর গিফট? ওয়েল, এতটুকু সামর্থ নিজের আছে যে যা ইচ্ছা নিজেকে গিফট করতে পারি। সুতরাং করো থেকে গিফট পাবার জন্য ৩৬৫ দিন বসে থাকার আকাঙ্খা করি না। আর বাস্তব সত্য হচ্ছে আমাকে গিফট করার জন্য কেউ বসেও নেই রে ভাই, এগুলা ফ্যানসি জিনিস কখনো অনুভব করি নি আর আকাঙ্ক্ষা ও রাখি না। হ্যাঁ, কিছু সময়ের জন্য ভ্রমের শিকার হয়েছিলাম, ভেবেছিলাম আমাকে স্পেশাল ফিল করানোর কেউ আছে, তবে সেই ভ্রম সে নিজেই ভেঙে দিয়ে গেছে, হারেহারে বুঝিয়ে গেছে আমার অস্তিত্ব, আমার তুচ্ছতা।

বার্থডে ম্যাসেজ? ওয়েল, আই ডোন্ট নিড দিস! অনেকে হাজারো মেসেজ পেতে পছন্দ করে, আর আমি মনে করি এগুলো মূল্যহীন, সব মেসেজে একই কনটেন্ট, তাও আবার কপিপেষ্ট বা ফরওয়ার্ড করা জিনিস।

তো, এটা জাস্ট লাইফের আরেকটা নতুন বছর (বেশির ভাগ মানুষের মতে), আর এখানে স্পেশাল কিছুই নেই। আমি জানি আমি সাধারণ জীবন লিড করি না। আপনার মত আমি সরকারি চাকুরী করি না, বা পেছনে দৌড়াই না। বিয়ে করা নিয়েও কোন মাথা ব্যাথা নেই, বাচ্চা কাচ্চা তো অনেক দূরের কথা। ঘর গোছানো, ঘর সাজানো, নিজের বাড়ি/গাড়ি কোন কিছুরই সপ্ন দেখি না। শুধু বিল পে করি…

তো এই হচ্ছে আমার জীবন আর বার্থডে! শুধু দিনের পর দিন আরো বেশি বয়স্ক হচ্ছি আর এখানে বিশেষত্বের কিছু নেই।

লেখকের সম্পর্কে

Tahmid Borhan

ইন্টারনেটে অধিকাংশ রিডার আমাকে প্রযুক্তি ব্লগার এবং একজন টেকগীক হিসেবেই চেনেন। এছাড়াও আমি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে থাকি, নতুন নতুন জিনিষ শিখতে এবং এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসি, প্রচণ্ড মুভি দেখি ও গান শুনি, বিজ্ঞান চর্চা করতে ভালোবাসি।

ঠিক যখনই আমি জীবনের অর্থ খুঁজে পেলাম, সে তা বদলে দিল!

1 comment

TahMiD's Blog! Tech, Science Writer & Blogger

Tahmid Borhan

ইন্টারনেটে অধিকাংশ রিডার আমাকে প্রযুক্তি ব্লগার এবং একজন টেকগীক হিসেবেই চেনেন। এছাড়াও আমি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে থাকি, নতুন নতুন জিনিষ শিখতে এবং এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসি, প্রচণ্ড মুভি দেখি ও গান শুনি, বিজ্ঞান চর্চা করতে ভালোবাসি।

ঠিক যখনই আমি জীবনের অর্থ খুঁজে পেলাম, সে তা বদলে দিল!